Home 1 আন্তর্জাতিক 1 তরুণদের দেখামাত্র গুলি করছে মিয়ানমার বাহিনী,জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে শত শত গ্রাম

তরুণদের দেখামাত্র গুলি করছে মিয়ানমার বাহিনী,জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে শত শত গ্রাম


জিএসএস নিউজ :: রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম একের পর এক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য আখ্যাদিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আরাকানের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার তরুণদের। তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তে এসে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা বলছেন, তারা উভয় সঙ্কটে পড়েছেন। নিজ দেশে বর্মী বাহিনীর নিপীড়ন ও সীমান্ত পার হলে বিজিবির বাধা। জিরো পয়েন্টে খোলা আকাশের নিচেই তাদের আশ্রয়স্থল। রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহারে তরুণদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। যাদের ধরতে পারছে না তাদের গুলি করা হচ্ছে। বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে সব পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের ঢেঁকিবনিয়ার উত্তরপাড়ার আহমদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, রোববার খুব ভোরে সেনাবাহিনীর একটি দল গ্রামে ঢুকে স্থানীয় জহির, করিম ও আব্দুর শুক্কুরকে আটক করে নিয়ে যায়।
এ সময় তারা পালিয়ে পাশের পাহাড়ে আশ্রয় নেন। পরে ওই তিন তরুণের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়। ঢেঁকিবনিয়া পূর্বপাড়ার আবছার কামাল জানান, সেনাবাহিনী সন্ধ্যার পর বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে। যেসব বাড়িতে মানুষ পাচ্ছে না সেসব বাড়ি বোমা মেরে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। যাকে পাচ্ছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সোমবার সকালে উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া আহমদ শফি জানান, ফকিরপাড়ায় গত দুই দিন ধরে সেনাবাহিনী বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রকাশ্যে অনেককে হত্যা করছে। রোববার বিকেলে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সীমান্ত সিল করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলগ্ন টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার সীমান্তে রাতের বেলায় আরকান রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিকান্ডে আগুনের লেলিহান শিখা সীমান্ত এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে। রাতে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ভেসে আসছে। বিরোধপূর্ণ এলাকার সীমান্তে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে ও সেন্টমার্টিনের অদূরে জাহাজ যাতায়ত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের জানান, সামরিক হেলিকপ্টারটি মিয়ানমার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় একটি ক্যাম্পে নামে। ঘণ্টা দেড়েক পর আবার চলে যায়। হেলিকপ্টারটি চলে যাওয়ার পর মিয়ানমার সেনারা নির্যাতন আরও বৃদ্ধি করেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে মিয়ানমারের হাইসসুরাতা এলাকায় ব্যাপক আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। বঙ্গোপসাগরে দেখা গেছে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর ৩টি জাহাজ। ফলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বাসিন্দারা। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যরা সীমান্তের স্থল ও নাফ নদের জলপথে অতিরিক্ত টহল জোরদার রেখেছে এবং সতর্ক পাহারায় রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে আরকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। উখিয়ার ঘুমধুমের জলপাইতলী এলাকায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে। তাদেরকে বিজিবি অনুপ্রবেশে বাধা দিয়ে মিয়ানমারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া টেকনাফ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকালে রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ১৪১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি ও পুলিশ। হোয়াইক্যং ও উনছিপ্রাং সীমান্ত এলাকা থেকে এসব রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়। পরে স্ব স্ব সীমান্ত দিয়ে আটক রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ২ বিজিবি’র টেকনাফস্থ ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম। এদিকে উখিয়া উপজেলার ঘুমধুম জলপাইতলীর জিরো পয়েন্টে অনুপ্রবেশের জন্য অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ঢেকিবনিয়ার মোহাম্মদ হোছাইন, মিনারা বেগম, খুরশিদা বেগমসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরা পুরুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করছে। মহিলাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
মোহাম্মদ হোছাইন আরো জানান, সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গুলি বর্ষণকালে প্রাণের ভয়ে পালানোর সময় পাঁচ বছরের ছেলেকে ফেলে চলে আসি। এখন ছেলেটি কোথায় এবং কি অবস্থায় আছে আল্লাহই জানে। খুরশিদা বেগম জানান, তার স্বামীকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। চারমাসের একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে এলাকার অন্যান্যদের সাথে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসি। কিন্তু এখানেও বিজিবি বাধার মুখে রয়েছি। বর্তমানে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছি। তিনি আরো বলেন, একদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন, অন্যদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা রোহিঙ্গাদের শেষ আশ্রয়স্থল কোথায়? তাদের সাথে কথার বলার সময় অন্যান্য রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরাও হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। সবার চুখে মুখে আতংকভাব। রোদ বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে সকলে জড়ো হয়ে কোন রকম ঠাঁই নিয়েছে। এসময় স্থানীয় কয়েকজন নারী পুরুষ তাদেরকে শুকনো খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*