Home 1 জেলার খবর 1 নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণের জন্য ২০ একর ভূমি অধিগ্রহন

নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণের জন্য ২০ একর ভূমি অধিগ্রহন


সাইফুল ইসলাম রুদ্র, জিএসএস নিউজ ,নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারদি ও কামারগাঁও মৌজায় নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ করা হবে। এজন্য ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে ঘুষের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে বেশিরভাগ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। ঘুষের বড় অংকের টাকা লেনদেন হচ্ছে চেকের মাধ্যমে। শিবপুর উপজেলার কারারাদি ও কামারগাঁও- তে ২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে নরসিংদী জেলা কারাগার। এর মধ্যে খাসজমি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি একত্রে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার কর্তৃক যত ব্যয় ধরা হয়েছে তার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী ক্ষমতাশালী চক্রের হাতে। চলছে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ।
ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি জানান, তার ৫০ শতাংশ জমি উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন থাকায় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। ওই টাকা দেয়ার আগেই তার কাছ থেকে নেয়া হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি চেক। ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় দেয়ার জন্য শহরের শিবপুর উপজেলার জনতা ব্যাংক শাখার হিসাব নম্বরের অধীনে এ চেক নেয় এলএ অফিসের দালালচক্র। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে জমির কাগজপত্রে নানা সমস্যার কথা বলে ফাইল আটকে দেয়ার চেষ্টা করেছিল চক্রটি। তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি দালালচক্রকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার অগ্রিম ১টি চেক দিতে বাধ্য হয়েছেন। এরপর ক্ষতিপূরণের চেকটি বুঝে পান।
তিনি আরও জানান, জনতা ব্যাংকের একটি শাখায় তার আগে থেকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তারপরও ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে জনতা ব্যাংকে নতুন করে আরেকটি অ্যাকাউন্ট করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু আমি নই, ঘুষ ছাড়া ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছে এ প্রকল্পে এমন নজির নেই। টাকা পাওয়ার জন্য সবাইকে বিভিন্ন ব্যাংকে নতুন করে অ্যাকাউন্ট করতে হয়েছে।
শিবপুর উপজেলার চাতরি ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন গেলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির প্রায় মালিকের কাছে একই অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্য আরেক জমির মালিক জানান, এলএ অফিস থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আগাম চেক নেয়া হচ্ছে। সরকারি ফিসহ নানা অজুহাতে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, তার দাদা আনজুমুল হক চৌধুরীর ১০ শতাংশ জমির দাবিদার পাঁচ ছেলে, দুই মেয়ে রয়েছে। কিন্তু এলএ অফিস ওই জমি অধিগ্রহণের টাকা শুধু তার চাচা নুরুল হুদাকে দিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবাসহ অন্য চাচা ও ফুফুরা এলএ অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পে তার পিতার ৫ গণ্ডা জমি রয়েছে। এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে নানা টালবাহানা করছে এলএ অফিস।
অন্য এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তারা ২ গণ্ডা জমি ১৯৮২ সালে কিনেছেন এক ব্যক্তির কাছ থেকে। গত এপ্রিলে নামজারি করা হয়। এরপরও তার জমির টাকা নিয়ে টালবাহানা করছে এলএ অফিস। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট ভূমি হুকুম দখল এক কর্মকর্তা- বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ করতে। ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় দেয়া বাবদ বেশিরভাগ অর্থ আদায়ের অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে ১ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। ক্ষতিপূরণের চেক দেয়ার আগেই এ টাকা কেটে রেখে চেক দেয়া হচ্ছে। নরসিংদী শিবপুর উজেলার কারারদি ও কামারগাঁও এর ২০ একর জমিতে নরসিংদী জেলা কারাগার স্থাপনের জন্য এই অঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে সরকারিভাবে সবকিছু গড়ে উঠবে। এরই মধ্যে সম্পূর্ন ভূমিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*